এ এক অবিশ্বাস্য প্রশান্তি। সেদিন মণ শহরের যান্ত্রিকতা পেরিয়ে আচমকা নির্জন, আমার সারাজীবনে দেখা সবচে নিঝুম, এবং প্রশান্তিভরা রুক্ষ, চ্যালেঞ্জিং পাহাড়ী ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে একাধিকবার পাহাড়ী বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপে হয়ে গিয়ে একাধিকবার কড়া রোদে গা শুকিয়ে, ভয়ানক ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমি পৌছেছিলাম লংগওয়া।


এই দম্পতি যেখানে ঘুমিয়েছেন প্রশান্তিতে, এটা মিয়ানমার। আমার একটু পিছনে ফেলে এসেছি ভারত-মিয়ানমার সীমানা প্রস্তরখানি। তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রী সেলসসিয়াস।খানিকক্ষণ কবরফলকের দিকে চেয়ে থেকে, দৃস্টি প্রসারিত হয় সামনের রহস্যময় উপত্যকায়। কতগুলো মায়াবী খয়েরী মেঠোপথ একেবেকে হারিয়েছে কোন সে অজানায়!


মনটা স্থির রাখা ছিলো ভীষণ দায়। কত কিছু, কত দুর্দান্ত চিন্তারা যে খেলে যাচ্ছিলো মাথায়, মানসপটে...


ইন্দো-বার্মিজ সীমান্ত তখন আর মোটে ছয় কিলোমিটার পথ উপরে, আমার পুরো শরীর কাদায় একাকার, প্রিয় সাইকেলটাও ভিজে চকচক করছে....আলগা নুড়িপাথরের সেই সরু পথে ভীষণ খাড়া এক খাদের পারে দাঁড়িয়ে ব্যাগ থেকে বের করে একটা সামোসা চিবুচ্ছি আমি অনেক আরাম করে, ঝিরঝিরে বৃস্টিতে চোখের পাপড়ি বেয়ে প্রায় সারাক্ষণই ভীষণ ঠান্ডা পানি পড়ছে, চোখ মেলে তাকানো যাচ্ছেনা! জুতোজোড়া ভিজে চপচপ করছে, দাতগুলো ঠকঠক করে বাড়ি খাচ্ছে অকল্পনীয় ঠান্ডায়, কানের পাশ দিয়ে মাঝেমাঝে শা শা শব্দ করে ছুটে যাচ্ছে দামাল হাওয়া! ওই মুহুর্তে আমার মনে হয়েছিলো ওটা আমার জীবনের প্রথম সত্যিকারের অ্যাডভেঞ্চার।

×