সেপ্টেম্বর '২৩
রোমাঞ্চপুরঃ আরাল সাগরের বালিয়াড়ি ঘেঁষা দুটি মানুষের সেই গ্রাম!
একদিন, দুর্দান্ত উজ্বল এক শরতের দিনে কাউকে কিছু না বলে ঘর ছেড়েছিলাম।
ঢাকার এয়ারপোর্টে পৌঁছেছিলাম সাইকেল চালিয়েই। বেমানান কাপড় পরা, ধুলো ময়লা মাখা, এলোমেলো চুলের কিশোরটি বার্মাগামী বিমানের পেটে ঢুকে পড়ে যেনো কাচুমাচু ভঙ্গিতে, জবুথবু হয়ে লুকিয়ে রইলো ইকোনমি ক্লাসের মাপা সাইজের সিটের একটা কোনে, তার মনে হচ্ছে, এখনি কেউ এসে বলবে, এই ছেলে, তুমি এখানে কি করছো? তোমাকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। বুকের মাঝে বিরাট এক হাতুড়ির বাড়ি অনুভব করতে করতে তুমুল আকাঙ্ক্ষার সাথে সে অপেক্ষা করে ছিলো প্লেনটা কখন ঢাকার মাটি শেষবারের মত ছুয়ে দেবে।
স্বপ্নের ঘোরেই যেনো সে রেংগুনের বিমানবন্দরে নেমেছিলো। ভোর পাঁচটায় কাস্টমস চেকিন সেরে, খালিপেটে, ঘুমঘুম চোখে উর্ধশ্বাসে ছোটাতে শুরু করলো সে তার সাইকেলটা থাই সীমানামুখী। তিনদিন আধপেটা খেয়ে, গহীন বনের মাঝে তাবু ফেলে রাত কাটিয়ে, সারাদিন ধরে সাইকেল চালিয়ে থাইল্যান্ডের সীমানা পার করেও সে একটাবার পিছনে চেয়ে দেখেনি, যেনো ভয়ানক কিছু একটা তাড়া করে আসছে, এবং সে ফিরে চাইলেই কব্জা হবে তার বাঁধনে। পরের পুরোটা সপ্তাহ থাই দেশের উত্তরের ঘন বন-পাহাড় পাড়ি দিয়ে, ক্লান্ত, বিধ্বস্ত হয়ে তার ট্রানজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হবার দেড় ঘন্টা আগে যখন ভিয়েতনামে পৌঁছল, সে অবশেষে একটা কোল্ড ড্রিংক্সের দোকানের সামনে গিয়ে দোকানিকে বললো- ‘জিন চ্যাও, আনচাই! হুং কোকাকোলা লাম অন!’ কোকের বোতলটা খালি করেছিলো সে চোখ বন্ধ করে, এরপর, সে কেদে ফেললো, এবং তার চোখমুখ উজ্জ্বল হাসি হাসতে রইলো। দোকানে থাকা তিনজন লোক অবাক হয়ে দেখতে রইলো তাকে। সে মনে মনে কেবলই বলেছিলো- যাত্রা হলো শুরু, যাত্রা হলো শুরু। পকেটে হাত দিয়ে নোটের তাড়াগুলো বের করে পরম যত্নে হাত বুলালো তাদের উপরে। এই ঘটনাও আড়াই বছর আগের কথা।
এরপরের দিনগুলো ছিলো রঙিন। নিঃসন্দেহে আমার ছোট জীবনের মধুরতম দিন, মাস এবং বছর একাধিকবার পার হয়েছে সেই নিয়তিনির্ধারক বিকেলটির পর।
মার্গারিতার কথা মনে এলো। ওর কাছে মায়া ছিলো। মঙ্গোলিয়ার সেই পাহাড়ী উপত্যকায় ছিলো মায়ায় ভরা দিনগুলো। দড়াম করে উরুতে একটা ঘুসি বসিয়ে দিয়ে, দুই হাতে চেপে ধরলাম মুখটা। মাথা ঝাকি দিয়ে অশ্রুটুকু ঝরিয়ে ফেলে দুটি শুন্য মুহুর্তভর দিব্যচোখে স্প্যানিশ মেয়েটার মায়াভরা হাসিমুখটা স্মরণ করে নিলাম। অতটুকুই, এরপর জোর করে মনটাকে টেনে সরিয়ে নিয়ে এলাম ধুসর সেই সাগরপারে।
বাড়ির উঠোন প্রায় তিরিশ গজ দূরে। সেখানে দাঁড়িয়ে অবাক দুই চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে মিস আইজার।
আচমকা সৃস্টিকর্তার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতায় ভরে গেলো আমার মন টা। সেন্ট্রাল হাইওয়ে রোমাঞ্চপুর থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার উত্তরে। তার আশেপাশে কোনো জনবসতি নেই, আমার জানামতে, থাকার কথা নয়। অমন দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার মাঝে যে ট্রাকটি আমাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গিয়েছিলো- যদিও তখনো আমি সেকথা জানতাম না- সেই ড্রাইভার তো আর থামেনি। অথবা থেমে একবার পিছু ফিরে চাইলেও আমাকে উদ্ধার করতে ফেরেনি। সে সম্ভবত ধরে নিয়েছিলো আমি মৃত। অমনটা যদি হতো, তাহলে এই মুহুর্তে কোনো এক অজানা, অচেনা উপত্যকায় মাটির সাথে মিশে রইতো আমার নাজুক মানবদেহটা। কতকোটি স্বপ্নগুলো, ওরা কোথায় যে যেতো, কে জানে! সেকথা জানতে দেয়নি প্রকৃতিকে- আর্সেন চাচা। প্রায় তিন মাস পর বাজার করতে বেরিয়েছিলেন তিনি সেদিন, তাও সচরাচর সাগর পাড়ি দিয়ে যে শহরে যান, খারাপ আবহাওয়ার জন্য সেখানে যেতে পারেননি। আমাকে দেখেও তো তিনি চলে যেতে পারতেন! চলে গিয়েছিলেন ও। হঠাত তার মনের পর্দায় ভেসে উঠেছিলো কয়েক মুহুর্ত আগে সাদা বরফের রাজ্যে চোখের কোনে প্রতিফলিত হওয়া বৈসাদৃশ কিছু। ছুটে এসেছিলেন চাচা। আমাকে পাজাকোলা করে তুলে নিয়েছেন, কাধে করে হেটেছেন প্রায় চার মাইল পথ। এরপর দুইবার গাড়ি বদল করে, ফের আরো দুই মাইল পথ আমাকে বয়ে নিয়ে পাশের গ্রামের এক আস্তাবল থেকে একটা ঘোড়া ধার নিয়ে তিনি পৌছেছিলেন রোমাঞ্চপুরে।
আমার এসপেরানজা রয়ে গেলো সেখানেই। আর্সেন চাচাকে বহুবার একই প্রশ্ন করেছি আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে- চাচা, তুমি কোনো সাইকেল দেখোনি? আমার আশেপাশেই তো ওটা থাকার কথা চাচা! তুমি জানো, ওটা শুধু একটা সাইকেল না, আমার পুরোটা জীবন..। আর্সেন চাচা সাইকেল দেখেননি। কাছাকাছি থেকে থাকলেও, ওই মুহুর্তে তার অন্যকিছু ভাবার কথা না, আর অন্যকিছু খুজে পাবার আকাঙ্ক্ষা না থাকায় তার মস্তিস্ক কাজ করছিলো ভিন্নভাবে। আর মস্তিষ্কের সাথে চোখের সম্পর্ক নিবিড়। আমাকে কোত্থেকে উদ্ধার করেছিলেন, সেকথাও তিনি আর মনে করতে পারেন না। পারার প্রশ্ন ও আসে না, সাদাটে বরফের রাজ্যে পুরো জগতের ঠিকানা সেদিন ছিলো এক।
আমি কপর্দকশুন্য, বস্ত্রশুন্য, এবং আমার সারা জীবনের স্বপ্ন এসে থেমে গেছে দুর্গম, নির্জন, এক মরে যাওয়া সাগরপারের দুইজন মানুষের জনবসতির গ্রামে। ছটফটে আমি ছোটবেলা থেকে- প্রিয় জিনিস হারানোর দুঃখ আমার কাছে অসহ্য। কিন্তু তবু, ওই একটিমাত্র ভাবনা আমাকে প্রশান্তি এনে দিলো- আমার নাজুক মানবদেহটা কোনো এক নামচিহ্নহীন কবরে, অথবা অজানা এক উপত্যকায় মাটির সাথে মিশে যেতে পারতো এতদিনে…তা তো যায়নি! জীবন- আমার সবচে বড় সম্পদটা গত সাড়ে বাইশটি বছরের মত করে তখনো রয়ে গেছে আমার সাথে।
আইজার আর তার দাদার জীবনের সাথে আমার জীবনটার কোনো এক মুহুর্ত মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে, এখন ওটা ‘আমাদের’ জীবন। সবকিছু ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র বর্তমান মুহুর্তগুলোকে আটোসাটো করে জাপটে ধরলাম ফের আমি। মার্গারিতা আলভারেজ, আমিরখান ওমারভ, আইশা দাদী, তারা সবাই যেনো ভিন্ন কোনো সময়ের, ভিন্ন কোনো গ্রহে আমার ভিন্ন কোনো জীবনের গল্প তখন।
প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগে ঘুম টূটে যায় আমার। না যেয়ে উপায় নেই। চাচা তার নৌকা নিয়ে গায়েব হয় তখন। সে সামান্যতম শব্দ ও করে না, কিন্তু তবু, ছোট্ট কুটিরটির দুইদিকের দুই বিছানা থেকে একসাথে উঠে বসে আড়মোড়া ভাঙি আমি আর ছোট্ট আইজার। আইজার আমার দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে হেসে গুড মর্নিং বলে, প্রতিবার তার হাসিতে একইরকম আন্তরিকতা, আর অনুভুতিরা মিশে থাকে। আমি অনেক বলেও চাচার সাথে তার নৌকার আরোহী হতে পারিনি। সে ভীষণ এক তিরস্কার করে একাই চলে যায়। তার নিশ্চিত ধারনা, ওনার সাথে যে-ই যাবে সাগরে, তার অকল্যান ঘটবেই, ঘটবে। দাদুকে খাবার বানিয়ে দিই আমি আর আইজার। মাছের স্যান্ডউইচ। প্রতিদিন একই জিনিস। যেদিন আইজারের ক্ষেতে দুয়েকটা টমেটো, বা পেয়াজ খুজে পাওয়া যায়, সেদিন তার ভাগ্যে সালাদ ও জোটে। বুড়োটা চোখে একটা বিশ্রীরকম কালো সানগ্লাস পরে চলে যায় আলগোছে জেটি থেকে তার বেমানানরকম বড়সড় ফিশিং বোটটা পিছলে, আমি আর আইজার চেয়ে থাকি তার দিকে,যতক্ষণ চোখে দেখা যায় তাকে। প্রায় অন্তন্তকাল দৃশ্যপটে থাকে যেনো আর্সেন চাচা। আরাল সাগরের বিরান মরুর বুকে দিনের প্রথম সুর্যরশ্নি প্রতিফলিত হয়ে ধূসর জলধারাকে জ্বালিয়ে দেয় যখন- ছোট্ট আইজার তার মুঠির মাঝে শক্ত করে ধরে রেখেছে আমার হাত- চাচা অদৃশ্য হতেই একটা খামচির সাথে ফোস করে একটা শ্বাস ফেলে সে আমার চোখের দিকে চেয়ে হাসে। অন্তর্ভেদী ওই চোখের নজর তীক্ষ্ণ কোনো ধারালো মারণাশ্রের মত আঘাত করে আমাকে। আইজারের চেয়ে গভীর কালো চোখের কোনো মানুষ আমি কখনো দেখিনি। মনের অবস্থা যা-ই হয়ে থাক, ওরা সবসময় জ্বলতে থাকে, টলমল করে অজানা কোনো আবেগে।
আমাকে অনেক প্রশ্ন করে মেয়েটা। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই কোনো জবাব পায় না। আমি শুধু ওর দিকে চেয়ে হাসি।
আমাদের কথোপকথনটা দশ বছর বয়সের ব্যাবধানের দুটি মানুষের মত হয় না ঠিক কখনোই।
‘ও আইজার, তুমি পৃথিবীর মানচিত্র দেখেছো কখনো?’
‘দেখেছি তো ট্যান!’ ভাই টাইয়ের ধার ধারেনা পাটখড়ির মত মেয়েটা ‘আমি পৃথিবীর মানচিত্র খুব ভালোওবাসি। জানো, আমি এমনকি তোমার দেশের প্রতিবেশী দেশের নাম ও বলতে পারবো। ইন্ডিয়া। ঠিক বলেছি না?’
‘ঠিক ঠিক বলেছো। বাংলাদেশ এখান থেকে কতদুর, বলোতো?’
‘তা তো জানি না, দুরত্ব সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুবই কম। আমি শুধু বলতে পারি, পৃথিবীর অনেকগুলো পাহাড় পাড়ি দিয়ে পৌছতে হবে তোমার দেশে’
‘আচ্ছা। এটাও ঠিক বলেছো। তারমানে তুমি জানো, পৃথিবী আরাল সাগরের চেয়েও অনেক বড়, তাই না?’
‘ট্যাআন!’ সুর করে বলে উঠলো লালচুলের মেয়েটা ‘আমাকে তোমার বাচ্চা মেয়ে মনে হয়? আমার বয়স বারো বছর, আমি ভিক্টর হুগোর বই পড়েছি, পাওলো কোয়েলহোর বই পড়েছি, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বই পড়েছি, লিও তলস্তয়ের বই পড়েছি…ওনারা আমাকে এই বদ্ধ কামরায় আধশোয়া হয়ে থেকে হাতে ধরে পৃথিবী চিনিয়েছেন’
চোখ বড়বড় করে চেয়ে রইলাম আমি বারো বছরের বুড়িটির পানে, নির্বাক! ও ফিক করে হেসে ফেললো।
‘আমি জানি তুমি কি বলবে! পৃথিবীটা এত বড়, আর আমি আর দাদু কেনো এই এক ছোট্ট মরা সাগরের তীরে সারাজীবন পার করে দিচ্ছি, তাই না? কি করবো বলো, আমার ও অনেক ইচ্ছা করে তোমার মত সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াতে, আমার একটা ঘোড়া থাকবে, যার নাম আমি রাখবো ‘এসপেরানজা’, পৃথিবীর কাছ থেকে মনুষ্যত্ব শিখবো! কিন্তু দাদুকে ভালোবাসি আমি অনেক’
আমার দিকে চেয়ে ফের মুচকি হাসলো সে।
‘শোনো, তুমি যখন পড়ে পড়ে শুধু ঘুমাতে, আমি তোমার ডায়েরী পড়েছি মিস্টার! শুধু ‘এসপেরানজা’ না, আমি ‘মার্গারিতা আলভারেজ’ ও চিনি। অদ্ভুত একটা বর্নমালায় লেখো তুমি মাঝেমাঝে, ওগুলো কিছু বুঝিনি।’ সাফসাফ বলে দিলো সে আমাকে। ‘আর এই দেখো, ডায়েরীতে একটা ছবিও আছে, তুমি, আর একটা মেয়ে, মেয়েটা হাসতে হাসতে কাঁদছে, আর তুমি তার দিকে তাকিয়ে কত সুন্দর করে চোখ বুজে হাসছো। আমার ধারণা, এই মেয়েটাই মার্গারিতা আলভারেজ, সেই রাশিয়ান-স্প্যানিশ-মংগোলিয়ান মেষপালিকা, যার নামের পাশে তুমি অনেকগুলো ভাষায় একই কথা লিখেছো- ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি…।’
‘অন্যের ডায়েরী পড়া উচিত না আইজার’ কপট শাসনের সুর তুলতেই হলো আমাকে। পরমুহুর্তেই সুর পালটে বলে ফেললাম ‘কিন্তু জানো, আমার কেনো যেনো একটু ভালো ও লাগছে, যে কেউ আমার কথা শুনছে। বহুদিন হয় কেউ আমার কথা শোনে না আইজার। আমি ভীষণ একা। মাঝেমাঝে মনে হয়, পুরো মাল্টিভার্সে আমি একা। আমার চারিপাশে যত মানুষ, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ই নেই। ওরা যেনো জড়-বস্তু, আমার মতই দেখতে, শুনতে, কিন্তু যেনো ওদের সাথে যোগাযোগের আমার কোনো মাধ্যম নেই, কোনো উপায় নেই। মার্গারিতা, আর এসপেরানজা আমার জীবনের সবটুকু সুখ, দুঃখ, আর সবকিছু। ওরা কেউই আর নেই আমার সাথে। আমি তোমাকে ভালোবাসি আইজার।’
এই প্রথম কথা হারিয়ে ফেললো ছোট্ট বিচ্ছুটা। কিজানি, হয়তো একটু ভিজেভিজে দেখাচ্ছিলো আমার চোখদুটো। আরাল সাগরের উপকুলের ছোট্ট এক বালিয়াড়িতে হামাগুড়ি দিয়ে বসে থেকে অনুভব করলাম, আমার কাধে আলতো করে হাত রেখেছে ও। অন্য হাতে ফ্রকের নীচটা তুলে নিয়ে যখন আমার চোখে চেপে ধরলো, তখন মনে হলো, চোখদুটো শুধু ভেজেনি, অশ্রু এসে গেছে ওখানে অনেকগুলো।
‘তো, আইজার, দেখেছো, আমার জীবনে কোনো দুঃখ নেই, তাও কেদে ফেলেছি! আমি তাহলে একদম তোমার মত।’ ও চুপ করে আছে দেখে আমাকেই বলে যেতে হলো ‘তোমাকে মার্গারিতা, আর এসপেরানজার গল্প অনেক শোনাবো, অদ্ভুত বর্নমালায় লেখা গল্পগুলোও অনুবাদ করে দেবো, যাও। তার আগে বলোতো, তলস্তয়ের কোন বই তুমি পড়েছো?’
‘আনা কারেনিনা’ নির্বিকার কন্ঠে নাম নিলো সে ঐতিহাসিক এক সাহিত্যের।
‘পুরোটা? কত বছর বয়েসে?’
‘এগারো’
‘তোমাকে আমি অনেক শরদ্ধা করি আইজার। তোমার বয়স সংখ্যায় বারো, কিন্তু আমার ধারণা, তুমি ষোল বছরের মেয়ের মত ভাবতে পারো।’
‘না না, ষোল না ষোল না। একুশ!’
‘একুশ?’ দরিয়া গলায় হেসে উঠলাম আমি ‘তুমিতো আমার সমবয়েসী হে ছোট’1